দণ্ডের পরিণাম (পাঠ : ৭)

সূত্র ও নীতিগাথা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

183

জীবন সকলেরই প্রিয়। জগতের সকল প্রাণী মৃত্যু ও দণ্ডকে ভয় পায়। তাই অপরকে নিজের মতো ভেবে কাউকে আঘাত করা উচিত নয়। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দের জন্য দুর্মতি পরায়ণ ব্যক্তি অপরকে দণ্ড দ্বারা আঘাত ও হত্যা করে। কিন্তু দণ্ড প্রয়োগে প্রকৃত সুখ অর্জন করা যায় না। দণ্ডের পরিণাম ভয়াবহ। এতে প্রতিশোধ স্পৃহা জাগ্রত হয়, শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। নিরাপরাধ ব্যক্তিকে দণ্ড প্রয়োগ গুরুতর অপরাধ এবং পাপও বটে। যে দুর্নীতি-পরায়ণ ব্যক্তি নিরাপরাধ ব্যক্তি, কল্যাণ মিত্র বা সাধু ব্যক্তিকে দণ্ড প্রয়োগ করে বা মিথ্যা নিন্দা আরোপ করে, পরিণামস্বরূপ সে দশবিধ দুঃখজনক অবস্থার অন্যতম অবস্থাপ্রাপ্ত হয়। যথা: ১) সে শিরঃপীড়া, শূলরোগ প্রভৃতি দ্বারা তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করে; ২) তার স্বীয় শ্রমলব্ধ সম্পত্তির অপচয় হয়; ৩) তার শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়; ৪) তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত, চক্ষুহানি, মেরুদণ্ড বিকৃতি, কুষ্ঠ প্রভৃতি গুরুতর রোগ উৎপন্ন হয়; ৫) সে উন্মাদ, রোগগ্রস্ত হয়; ৬) তাকে রাজাপরাধী সাব্যস্ত করে রাজকর্ম ত্যাগে বাধ্য করা হয়; ৭) সে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে জড়িত হয়ে নিদারুণ কলঙ্কের ভাগী হয়; ৮) তার আশ্রয়দাতা জ্ঞাতিগণের বিয়োগ হয়; ৯) তার সঞ্চিত ধন-সম্পদ নষ্ট হয় এবং ১০) তার গৃহ আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়।
এই ভয়াবহ পরিণাম হতে রক্ষা পেতে হলে দণ্ড ত্যাগ করে মৈত্রীভাব পোষণ করা উচিত। বুদ্ধ বলেছেন, শত্রুতা দ্বারা শত্রুতা প্রশমিত হয় না। মৈত্রী বা ভালোবাসা দ্বারা শত্রুতা প্রশমিত হয়। যিনি নিজের সুখের জন্য অপর সুখকাতর জীবের প্রতি হিংসা করেন না, দণ্ড প্রয়োগ করেন না, তিনি মৃত্যুর পর পার্থিব ও স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করে পরিশেষে পরম নির্বাণসুখ লাভ করেন। তাই সকলের দণ্ড ত্যাগ করা উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
দণ্ডের পরিণাম বর্ণনা করো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...